ডাচ বাংলা ব্যাংক লোন

ডাচ বাংলা ব্যাংক লোন
ডাচ বাংলা ব্যাংক ছবি
ডাচ বাংলা ব্যাংক ছবি

ডাচ বাংলা ব্যাংক লোন বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। সাহেবউদ্দিন আহমেদ ডাচ বাংলা ব্যাংক এর প্রতিষ্ঠাতা চ্যায়ারম্যান ও একটি ডাচ কোম্পানী এফএমও কে নিয়ে গড়ে উঠে।  ৩ জুন ১৯৯৬ থেকে এই বেসরকারি ব্যাংকটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এটি যৌথ উদ্দোগ্যে গড়ে উঠা একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এই ব্যাংক কোম্পানী আইন ১৯৯১ এর নিয়ম অনুযায়ী হয়েছিল। ও ১৯৯৪ সালে এটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এছাড়াও এটি চট্টগ্রাম ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর তালিকায় আছে। এই ব্যাংকে সংক্ষেপে DBBL বলা হয়। আজকে আমরা এই ব্যাংকের লোন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করব।

যে যে খাতে ডাচ বাংলা ব্যাংক লোন দিয়ে থাকেঃ

অন্য সকল বেসরকারি ব্যাংকের মতই ডাচ বাংলা ব্যাংক বিশেষ কিছু খাতে লোন দিয়ে থাকে। যা দেশের সার্বিক উন্নায়ণে প্রত্যক্ষ অবদান রাখছে। ডাচ বাংলা ব্যাংক কর্তৃক প্রদানকৃত লোন সমূহ হলোঃ

১.ডাচ বাংলা ব্যাংক শিক্ষা লোন।
২.ডাচবাংলা ব্যাংক ব্যবসা লোন।
৩.ডাচ বাংলা ব্যাংক স্যালারি লোন।
৪.প্রবাসী লোন।

এখানে একে একে এই সকল লোন নিয়ে আলোচনা করা হবে। সব ব্যাংক থেকেই লোন নিতে হলে কিছু প্রাথমিক শর্ত থাকে। এসব পূরণ করার পরই একজন গ্রহীতা লোন নিতে পারে। তাই পূর্ব থেকে এই সকল নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো।

ডাচ বাংলা ব্যাংক শিক্ষা লোনঃ

ডাচ বাংলা ব্যাংক শিক্ষা লোন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অভিভাবকের নিকট অনুমোদন করা হয়। উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করা, শিক্ষা খরচ, টিউশন ফী বাবদ এই লোন প্রদান করা হয়। এই লোনটি অসুরক্ষিত অথবা নিরাপদ উভয়ে হতে পারে। একজন শিক্ষার্থীর কোর্সের খরচ এই লোনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। তবে শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাকরি জীবনে ঢুকে এই লোন পরিশোধ করতে হয়।

এই লোন নিতে যে সকল কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় তা হলো-

১.ন্যাশনাল আইডি কার্ড অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা পাসপোর্ট।
২.মা-বাবার ডকুমেন্টস।
৩.স্থানীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ স্বরূপ ওয়ার্ড কমিশনারের দেয়া ফটো সংযোজিত সনদ।
৪.রঙিন ছবি।
৫.বিগত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
৬.টি আই এন সংক্রান্ত কাগজপত্র।
৭.চাকরিজীবী হলে পরিচয় পত্র ও ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স।
৮.বাড়ির মালিকানা থাকলে দলিল,ভাড়াটিয়া হলে ভাড়া চুক্তির রসিদ।
৯. লোন বিভাগের কাজে লাগতে পারে এমন কাগজপত্র।
১০.সর্বশেষ ব্যাংক যদি এর বাইরে কোন দলিলপত্র চায় তখন তা সরবারাহ করা।

এছাড়া শিক্ষা লোনের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই কোন প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত আছেন এমন প্রমাণ প্রদশর্ন পূর্বক আপনার ডিপার্টমেন্ট এর প্রধান বা প্রিন্সিপালের দেয়া লিখিত ডকুমেন্টস দিতে হতে পারে। অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি দিতে হবে৷

ডাচ বাংলা ব্যাংক ব্যবসা লোনঃ

দেশে বর্তমানে ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়াতে ব্যবসা লোন নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে৷ এর ধারাবাহিকতা হিসেবে বেসরকারি ব্যাংক গুলো ব্যক্তিগত পর্যায়ে ব্যবসা লোন দিয়ে থাকে। যার মধ্যে ডাচ বাংলা ব্যাংক অন্যতম। নূন্যতম ৫০,০০০ টাকা হতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত এই লোন নেয়া যেতে পারে ডাচ বাংলা ব্যাংক হতে। মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ যোগ্য এই লোন সর্বোচ্চ ৫ বছর মেয়াদে গ্রহণ করা যাবে। ব্যবসা লোন আবেদনের সর্বোচ্চ ১৫-২০ দিনের মধ্যে কার্যকর করা হয়। যে কোন বৈধ ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্যে স্থাপিত প্রতিষ্ঠান কে এই লোন দেয়া হয়। তা হতে পারে শিক্ষা,চিকিৎসা কিংবা প্রফেশনাল কোন অফিস স্থাপনের জন্যে।

এই লোন গ্রহণ করতে হলে একজন গ্রাহককে যে সকল শর্ত পূরণ করতে হবে তাহলো-

১. এই লোন নিতে আপনার বয়স সীমা হতে হবে ১৮-৬০ বছরের মধ্যে।
২.মাসিক উপার্জন হতে হবে নূন্যতম ২০ হাজার টাকা।
৩.অবশ্যই বাংলাদেশের একজন নাগরিক হতে হবে গ্রাহককে।
৪.ডাচ বাংলা ব্যাংকে একাউন্ট থাকতে হবে।
৫.এই লোন প্রসেসিং ফী ১%।
৬.বাড়ির মালিক কিংবা পেশায় নিয়োজিত অথবা ব্যবসায়ী হতে হবে।

যে সকল প্রমাণাদি প্রয়োজন হবে-


১.এন আই ডি বা পাসপোর্ট কপি।
২.আপনার ছবি।
৩. নূন্যতম ১ বছরের ব্যাংক হিসেব।
৪.টি এন্ড টি।
৫.চাকুরিজীবী  হলে আইডি কার্ড ও বেতন হিসেব বিবরণী।
৬. ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স।
৭.টেক্স সার্টিফিকেট।
৮.ইউটিলিটি বিল সমূহের কপি।
৯.বিজন্যাস কার্ড।
১০. এবং ব্যাংক কর্তৃক বিশেষ কোন কাগজপত্র চাইলে।

ডাচ বাংলা ব্যাংক স্যালারি লোনঃ

আপনার মাসিক অথবা বার্ষিক বেতন হিসাবের উপর এই লোন নির্ভর করে। পরিপক্কতার সময় পুরো লোন গ্রহণ করা যাবে মাসিক কিস্তির ভিত্তিতে। পরিবর্তনশীলতার উপর মুনাফার হার থাকবে সর্বোচ্চ ৯%। এখানে একটি ভালো সুবিধা হলো যত কম সময়ে আপনি লোন পরিশোধ করবেন সুদের হার তত কম হবে। এই লোন অনুমোদনে ১৫ কার্যদিবস লাগে। গ্রাহকের মাসিক আয়ের উপর নির্ভর করে সে কত টাকা লোন পাবে।

যে সকল শর্ত পূরণ করতে হবে-

১.ডাচ বাংলা ব্যাংক কে অবশ্যই একটি একাউন্ট থাকতে হবে।
২.বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
৩. এই লোন চাইলে কর্মচারীরা মাসিক বেতন চাইতে পারে ১০,০০০ টাকা।
৪.সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা আপনি গ্রহণ করতে পারবেন।।
৫. এই লোন নিতে নিরাপত্তা প্রর্দশনের প্রয়োজন হয়।

https://n

নামের অর্থ

স্যালারি লোন নিতে একজন গ্রাহকের যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন হয় তাহলো-


১.পাসপোর্ট সাইজের ছবি ১ কপি।
২.আপনার এন আই ডি বা পাসপোর্ট এর কপি।
৩.আপনার পেশা এবং উপার্জনের প্রমাণ।
৪.চাকরিক্ষেত্রের আইডি কপি,বেতন স্লিপ।
৫.আপনি প্রফেশনাল হলে যে বিষয়ের উপর তার সার্টিফিকেট।
৬. নূন্যতম ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
৭.ব্যক্তিগত গ্যারান্টি।
৮.টিনের বা ই-টিন এর সার্টিফিকেট।
৯.নিরপত্তা।
১০. ব্যাংক কর্তৃক দাবি করলে অন্যন্য কাগজপত্র।

ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোনঃ

রেমিট্যান্স যোদ্ধা বা প্রবাসীদের বিভিন্ন কারণে বেসরকারি ব্যাংক গুলো লোন প্রদান করে থাকে। এই ক্ষেত্রে এই অভিনব সুযোগ ডাচ বাংলা ব্যাংকও দিচ্ছে। ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন গ্রহণে যে সকাল শর্ত পূরণ করতে হয়-

১. বয়স নূন্যতম ১৮ বছর হতে হয়।
২.অবশ্যই যে ব্যাংক শাখা থেকে লোন নিবে তার এখতিয়ারে স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
৩.লোন গ্রহীতার পাসপোর্টের সত্যায়িত ফটো কপি।
৪.অথবা বৈধ ভাবে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রমাণ।
৫. উক্ত গ্রহণকৃত লোন শোধ করতে সক্ষম এমন কোন ব্যক্তিকে গ্যারান্টার করতে হবে।

উপসংহারঃ

উক্ত আলোচনায় আমরা ডাচবাংলা ব্যাংকের লোন গুলো সম্পর্কে জানলাম। কম বেশি বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংক গুলো ব্যাপক লোন প্রদান করে যাচ্ছে। বর্তমানে শিল্প ক্ষেত্রে অগ্রগতি, করোনা ভাইরাসের প্রভাব, রপ্তানি হার বৃদ্ধি সহ দেশে বিদেশে বিনিয়োগের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়াতে লোন নিতে অনেকেই আগ্রহী। সেক্ষেত্রে ডাচ বাংলা ব্যাংক হতে পারে সঠিক পছন্দ।

admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *